রবিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১১

কুড়িগ্রামে শ্বেতপত্র ও বিন্দু'র যৌথ উদ্যোগে খসড়া সম্প্রচার নীতিমালা-২০১১ বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

গত শনিবার ২২ অক্টোবর ২০১১ খ্রি. তারিখে কুড়িগ্রাম থেকে প্রকাশিত দুটি লিটলম্যাগাজিন শ্বেতপত্র ও বিন্দু’র যৌথ উদ্যোগে কুড়িগ্রাম প্রেসকাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে “খসড়া সম্প্রচার নীতিমালা-২০১১ ও গণতান্ত্রিক বাঙলাদেশ নির্মাণের প্রশ্ন” শীর্ষক আলোচনা সভা।
উক্ত সভায় বক্তব্য রাখেন, বাসদ- কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি এ্যাড. জাহেদুল হক মিলু, সিপিবি- কুড়িগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি মাহবুবার রহমান মমিন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ ও বন্দর রা জাতীয় কমিটি- কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সদস্য সচিব নুর মোহাম্মদ আনসার, সিপিবি- কুড়িগ্রাম জেলা কমিটির সদস্য আখতারুল ইসলাম রাজু, বিশিষ্ট কলামিস্ট নাহিদ নলেজ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন- কুড়িগ্রাম জেলা সংসদের দপ্তর সম্পাদক ও আবৃত্তিশিল্পি নিরঞ্জন চন্দ্র রায়, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট- কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সংগঠক কবি গৌতম কুমার, কুড়িগ্রাম ডিবেট ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক শান্তনু সরকার সহ অনেকে। সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্বেতপত্র সম্পাদক কবি মোকলেছুর রহমান।
সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান মতাসীন সরকার ‘খসড়া সম্প্রচার নীতিমালা-২০১১’ প্রণয়ন করার মধ্য দিয়ে এটা পরিষ্কার হয়েছে যে তারা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে বন্ধ করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এই নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে এদেশের মিডিয়াগুলো স্বাধীনভাবে সত্য ঘটনা প্রকাশ করতে পারবে না। পত্রিকাগুলো কেবলমাত্র নাচ-গান প্রকাশ করবে আর ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া মারডকের চ্যানেলের জায়গায় চলে যাবে। তারা আরো বলেন, সরকার একদিকে তথ্য অধিকার বাস্তবায়নের কথা বলছে অন্যদিকে তথ্য প্রকাশে বাঁধা দেবার ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করতে চাইছে; যা আসলে বুর্জোয়া সমাজ ব্যবস্থার মধ্যকার দ্বন্দ্বকেই প্রকাশ করে।
এই অগণতান্ত্রিক নীতিমালা অবিলম্বে প্রত্যাহার না করা হলে তারা এ বিষয়ে বৃহত্তর কর্মসূচির দিকে এগিয়ে যাবেন বলেও ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য সভাটি সঞ্চালনা করেন বিন্দু সম্পাদক শব্দশিল্পি সাম্য রাইয়ান।

রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১১

ভার্জিন

আরাফাত রাতিন


হাসনাবানু, শেফালি কিংবা সুুমি
কখন যে অন্ধকার নামিয়েছি।

নদীর পানিতে ভাসছে পতিতালয়
যৌবনের বাতি জ্বালিয়েছে কেউ কেউ,
মাঝিরা সব যৌনপুরীতে
স্রোতের বিপরীতে সাঁতরানোর ভয়

লিঙ্গ প্রসারিত হয়নি
ধন্যবাদ, আমি এখনো ভার্জিন

শূন্য দশক

নেয়ামুল ইসলাম

আমি তখন ঘরে ফিরি
যখন রাতের কুকুর সজাগ হয়ে উঠে।
হাঁটতে-হাঁটতে দেখা হয় একদল যুবকের
সিগারেট হাতে বাঙলা রেপ (র‌্যাপ) শোনায় শহীদদের
যেখানে এক সন্ধ্যায় মোমের আলোয় আলোকিত হয়েছিল আমার হাত
আর আমি পড়েছিলাম দু’বারের চেষ্টায় শূন্য দশকের কবিতা।
আমি বড় বিদঘুটে কবিতা পড়ি যেন মোটেই জানিনা কবিতা পড়তে
তবুও আমার উদ্দেশে তালি বেজেছিল ক’হাতের।
মোমের আগুনে পুড়েছিল শূন্যদশক
ঠিক শূন্যের মতো করে (কাগজে লেখা শূন্য দশক)
কেউ ব্যঙ্গ করে বলেছিল, এ-ই পরিণতি শূন্য দশকের।
তখন খুব মনে পড়ছিল শূন্যের ক’জনকে
অদৃষ্টবাদী হলে নিশ্চয় ছেড়ে দিত লেখা
লেখার ধারাবাহতকায় আজ আমি যথার্থ নই
সব জেনে কিছুই জানাতে পারলাম না কেন্দ্রস্থ বস্তুকে।

শ্বেতকথা

আর নিভে থাকা নয়, জমে থাকা নয়, দুর্দান্ত শক্তিতে নড়েচড়ে উঠেছি; প্রবল উত্তাপে জ্বলেছি ও জ্বালাচ্ছি। বৈশ্বিক চোখে দেখছি, বিশ্বশ্রোতা হয়ে শুনছি।
আমরা পড়তে চাই
আমরা লিখতে চাই
মুক্তচিন্তার বিকাশ ঘটাতে চাই
এ প্রত্যয় নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয় ২০০৯ সালে। এরই মধ্যে অর্জন-বর্জন, নিন্দিত-নন্দিতের ধারাপাত স্বল্প হলেও পঠিত হয়েছে- হচ্ছে। পেছনে পড়ে থাকা নয়- পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রত্যয়ে, অনুভূতি আর চেতনার সাম্রাজ্য সৃষ্টির ল্েয শ্বেতপত্র বদ্ধপরিকর।

দুই
এদেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি মানবাধিকার পরিস্থিতি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠিন সময় অতিক্রম করছে। মানবাধিকার সংগঠন অধিকার এর মহাসচিব এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আদিলুর রহমান খান এর মতে, ‘স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিটি সরকারের আমলেই মানবাধিকার পরিস্থিতি খারাপ থেকে খারাপতর হয়েছে। যা একটি ভয়াবহ অবস্থার দিকে বাংলাদেশকে ধাবিত করছে। পুলিশ বাহিনীটাই তৈরি হয়েছিল ব্রিটিশ উপনিবেশিক শক্তির লাঠিয়াল হিসেবে। যা পাকিস্তানের নয়া উপনিবেশিক শাসনামলেও বজায় থেকেছে, আর সাফল্য বা উপযোগীতার কথা বললে নগন্য থেকে নগন্যতর। আমাদের দেশে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনটিরই অবস্থান মানবাধিকারের েেত্র সহায়ক নয়। পুলিশ নিয়ত রিমােেন্ড নিয়ে মানুষকে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত। আমিন বাজারে ছয়জন ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তাদের ভূমিকা ছিল। কোম্পানীগঞ্জে দেখা গেছে পুলিশের মধ্যে যারা অপরাধী, তারা একজনকে জনগনের মধ্যে ছেড়ে দিয়ে পিটিয়ে হত্যায় উদ্বুদ্ধ করছে। এর বাইরে তো আমরা র‌্যাবের কর্মকান্ড দেখছি। যা আমাদের আবারো স্বাধীনতার অব্যবহিত পরের জাতীয় রী বাহিনীর কথাই মনে করিয়ে দেয়।’

বর্তমান মতাসীন সরকার খসড়া স¤প্রচার নীতিমালা করার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী কায়দায় মিডিয়ার কণ্ঠরোধের ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করতে চাইছে। এ ল্েয তারা দৃঢ় পদেেপ এগিয়ে চলেছে। প্রস্তাবিত স¤প্রচার আইনের প্রধান ধারাসমূহ হল:
১. এই আইন মতে রেডিও-টেলিভিশনে কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রকাশ পায় এমন অনুষ্ঠান প্রচার করা যাবে না।
২. বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ায় এমন কোন টক-শো প্রচার করা যাবে না।
৩. জাতীয় আদর্শ বা জাতিয় নেতাদের সমালোচনা করা যাবে না।
৪. কোনো অনুষ্ঠানে জাতির জনকের সমালোচনা করা যাবে না।
৫. কোনো অনুষ্ঠানে কোনো ব্যক্তির সমালোচনা করা যাবে না।
৬. জাতিয় আদর্শ ও ল্েযর সমালোচনা করা যাবে না।
৭. সামরিক বা সরকারী কোনো তথ্য ফাঁস করা যাবে না।
৮. আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়, এমন কোনো তথ্য প্রচার করা যাবে না।
৯. বন্ধুপ্রতিম কোনো রাষ্ট্রের সমালোচনা করা যাবে না।
১০. নারী পাচার, পতিতাবৃত্তি, ধর্ষণ ইত্যাদি বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার করা যাবে না।
১১. চুমুর দৃশ্য প্রচার করা যাবে না।
১২. বিদ্রোহ বা প্রতিবাদের কোনো খবর বা অনুষ্ঠান প্রচার করা যাবে না।
১৩. অপরাধীদের কর্মকান্ড নিয়ে কোনো অনুষ্ঠান প্রচার করা যাবে না।
১৪. রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, সরকারী প্রেস নোটস, বিজ্ঞপ্তি এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলো প্রচার করতে বেসরকারী স¤প্রচার মাধ্যমগুলো বাধ্য থাকবে।
(তথ্যসূত্র: সাম্পাহিক বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১১ খ্রি.)

প্রস্তাবিত স¤প্রচার নীতিমালাগুলো বাস্তবায়ন হলে প্রচার মাধ্যম বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ স¤প্রচারে মারাতœকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে; পঙ্গু হয়ে পড়বে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া। ইলেকট্রনিক মিডিয়া তখন শুধুমাত্র নাচ-গান, নাটক-সিনেমায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে। অপরদিকে সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে পরিণত করবে দুর্নীতি-স্বৈরাচারের গান্ডীব হিসেবে। এই প্রস্তাবিত স¤প্রচার আইন ফ্যাসিবাদী শাসন ও শোষণেরই নামান্তর। তাই মুক্তিকামী-গণতন্ত্রকামী প্রতিটি মানুষের এই ফ্যাসিবাদী নীতির বিরুদ্ধে বিস্ফোরিত হওয়ার এখনই সময়।

তিন
গত কয়েকদিন আগে সৌদি আরবে ঘটে যাওয়া আট বাঙলাদেশি শ্রমিক যুবকের শিরচ্ছেদ কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। একবিংশ শতাব্দিতে এসে বিশ্ব মানব সমাজ-সভ্যতা যখন বিজ্ঞান-প্রযুক্তির অগ্রগতিতে থৈ থৈ করছে তখন মধ্যযুগীয় বর্বর কায়দায় আল্লার আইনের নামে নৃশংস হত্যাকান্ড সংঘটিত হল। আমরা এই ঘৃণ্য বিচার ব্যবস্থার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

“এখানকার শ্রমিকরা সংগঠিত, কিন্তু পলিটিক্যালি না”

----------কমরেড মাহবুবার রহমান মমিন

কমরেড মাহবুবার রহমান মমিন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি- সিপিবি’র কুড়িগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি। পার্টিতে যোগ দেয়ার সময়, বর্তমান পরিস্থিতি প্রভৃতি বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন শ্বেতপত্রের সঙ্গে। সাাতকারটি গ্রহণ করেছেন শ্বেতপত্র সম্পাদক মোকলেছুর রহমান ও সাম্য রাইয়ান।

শ্বেতপত্র: আপনি কেমন আছেন?

মমিন: আমিতো অসুস্থই। আমি হার্টের রোগী, দুইটা হানড্রেড পার্সেন্ট ব্লক, আমি কথাও বেশি বলতে পারি না, কথা বললে সমস্যা হয়। আমি অসুস্থ প্রায় তিন বছর থেকে।

শ্বেতপত্র: আপনি কোন সময়ে, কিরকম পরিস্থিতিতে পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন?

মমিন: মূলত বাঙলাদেশের স্বাধীনতার পর যখন আমি প্রকাশ্যে ন্যাপ করি ঐসময় এখানে যখন কমিউনিস্ট পার্টি করা হল তখন মনিকৃষ্ণ সেন, শংকর বসু, জিতেন দত্ত, খয়ের ভাই আসতেন; এইসব কমরেড এখানে এসে কমিউনিস্ট পার্টি যখন গড়ে তোলেন তখন ১৯৭৪ সালে সম্ভবত আমি সদস্যপদ লাভ করি। আমাকে হারুন অর রশীদ লাল প্রকাশ্য কমিউনিস্ট পার্টি করার জন্য বলেন কিন্তু আমি পারিনি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (উনিও কমিউনিস্ট পার্টির লোক ছিলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন ন্যাপের মধ্যে একটা কমিউনিস্ট গ্র“প ছিল যারা প্রকাশ্যে ন্যাপ করতো কিন্তু মূলত কমিউনিস্ট পার্টি করতো) তখন আমাকে বললেন যে কমিউনিস্ট পার্টি করার দরকার নাই তুমি ন্যাপেই থাক, আমিও তো কমিউনিস্ট পার্টি করি, কাজেই তুমি ন্যাপেই থাক, ন্যাপটাকেই ডেভলপ করার চেষ্টা কর। আমাদের কমিউনিস্ট তখন চিত্তদা ছিলো (লালমনিরহাটের, উনিই প্রধান ছিলেন), আমি ছিলাম, চাঁদ উকিল ছিলো, ফিরোজ মুহাম্মদ ফারুক ছিলো, জসিও ছিলো; আমরা সম্ভবত পাঁচজন ছিলাম কুড়িগ্রামে যারা ন্যাপ করতাম অথচ আমরা কমিউনিস্ট পার্টি করি। আর আমাদের বৃহত্তর রংপুর জেলায় ছিলেন মোহাম্মদ আফজাল, উনি প্রকাশ্য ন্যাপ করতেন; এ-ই তখন থেকেই প্রকাশ্যে আমি ন্যাপ করি, ভিতরে ভিতরে কমিউনিস্ট পার্টি করি। এভাবেই কমিউনিস্ট পার্টিতে আসা। কিন্তু এখানকার কমরেডরা চেয়েছিলো আমি প্রকাশ্যে কমিউনিস্ট পার্টি করি, আমি কিন্তু অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের কারনেই (আমাকে খুব øেহ করতেন) প্রকাশ্য না করে ন্যাপের মধ্যেই কমিউনিস্ট পার্টির কাজ করি।

শ্বেতপত্র: কুড়িগ্রাম জেলায় শ্রমিকদের মধ্যে আপনাদের কাজের অবস্থা কিরকম?

মমিন: শ্রমিকদের মধ্যে কাজের বর্তমান অবস্থা খুব বেশি ভালো নয়, দুই-একজন শ্রমিক আমাদের কমিউনিস্ট সদস্য আছেন। এখানকার মূলত মটর শ্রমিক ইউনিয়নটাই বেশি শক্তিশালী; কিন্তু এরা শক্তিশালী হলেও মূলত আওয়ামীলীগ সমর্থক আবার কেউ বা বিএনপি সমর্থক থাকতে পারে, আছে; বা অন্য দলও থাকতে পারে। কিন্তু মূলত এরা নন পলিটিক্যাল। আমি এদের সাথে অনেকবার কথা বলেছি এবং আনসার (কুড়িগ্রাম জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক) যেহেতু শ্রমিক সংগঠনে কাজ করেছিলো পার্টির প।ে এখানকার শ্রমিকরা সংগঠিত, কিন্তু পলিটিক্যালি না। আমি মে দিবসে যেমন বলি, শ্রমিক শ্রেণির রাজত্ব কায়েম করতে হবে, শ্রমিকদেরকেই একদিন মতায় যেতে হবে। কাজেই
শ্রমিকদের রাজনীতি শিখতে হবে। আওয়ামীলীগের বর্তমান যে রাজনীতি তা শ্রমিকের পে নয়, গার্মেন্টস শ্রমিকের বেতন তারা বাড়াচ্ছে না। যারা শ্রমিক আছে তাদের সুযোগ-সুবিধার জন্য কাজ করে না, আওয়ামীলীগ ধনীক শ্রেনির প্রতিনিধিত্ব করে। বিএনপি, জামাত, জাতীয় পার্টি সবাই ধনীক শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করে। কাজেই শ্রমিক শ্রেণিকে এই রাজনীতিটা বুঝতে হবে।

শ্বেতপত্র: পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে আপনাদের কোন কাজ আছে কি?

মমিন: পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে একটু কাজ আছে, আমরা দাঁড় করাবার চেষ্টা করেছি; আমি এবং আনসার অনেকবার বসেছি। ২০০৯ এ আমি হার্ট এটার্ক করার আগেই যতদূর করেছি ঐ পর্যন্ত। আমার অসূস্থের পর আমি ঐভাবে কাজ করতে পারি নাই, আর আনসার একাকী ঐভাবে অগ্রসর হতে পারেনি। এখানে নেতৃত্বের সংকট প্রবল, কেননা যেহেতু বিলোপবাদীরাই শক্তিশালী বেশি এবং সত্যিকথা বলতে কিÑ অন্য কোথায় কি রকম জানি না, কুড়িগ্রামে অন্তত কমিউনিস্ট পার্টি যাতে না দাঁড়ায় তার এহেন চেষ্টা নেই তারা করছে না। যার জন্য এখানে আমরা ঐভাবে আগাইতে পারি নাই।

শ্বেতপত্র: আমরা জানি একটি বিপ্লবী পার্টির জন্য বিপ্লবের স্তর নির্ধারন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। বাঙলাদেশের বিপ্লবী পার্টিগুলোর কোনোটা মনে করে তাদের বিপ্লবের স্তর জাতীয় গণতান্ত্রিক, কোনটা মনে করে নয়াগণতান্ত্রিক, এবং কোনটা মনে করে সমাজতান্ত্রিক। এেেত্র সিপিবি’র দৃষ্টিভঙ্গি কী?

মমিন: কংগ্রেসে যেটা পাস হয়েছে, সিপিবি বর্তমানে আমাদের বামপন্থী দলগুলো, যতগুলো দলই আছে একেকজনের মূল্যায়ন একেক রকম। কিন্তু আসল ঘটনা হল সংগঠন। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে না পারলে কাকে দিয়ে বিপ্লব করা হবে? বিপ্লব তো হবে না। আমরা একটা বিপ্লবী পার্টি হতে চাই কিন্তু বিপ্লবের জন্য আমরা কি সবাই প্রস্তুত আছি? আমাদের কি সংগঠন সেই শক্তিশালী আছে? আমরা কমিউনিস্ট পার্টি এখানে বাম ফ্রন্ট একটা করা, একটা বিকল্প শক্তি গড়ে তোলার জন্য দীর্ঘদিন থেকে চেষ্টা করে আসছি; এদেশের দ্বি-দলীয় মেরুকরণের বাইরে একটা তৃতীয় গণতান্ত্রিক বামজোট গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। আজকের বাঙলাদেশে আমরা যদি নতুন কথা নিয়ে তৃতীয় শক্তি হিসেবে মানুষের কাছে হাজির হতে পারি তবে জনগনের আমাদের কথা শুনবে। আমরা যেমন বলি ‘লাঙ্গল-পাল্লা-নৌকা-শীষ, সব সাপেরই দাঁতে বিষ, তফাত শুধু উনিশ-বিশ’। কাজেই আমরা গরীবের পরে রাজনীতি যারা করি তারা যদি ঐক্যবদ্ধ না হই, পুঁবিাদে যারা বিশ্বাসী তাদের লেজুরবৃত্তি যদি করি তাহলে বিপ্লবী পার্টিও সেইভাবে গড়ে উঠবে না।

শ্বেতপত্র: সিপিবি’র অনেক সম্পত্তি এনজিও ও ব্যক্তি ভোগদখল করে আছে, এটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, অনেক অনুষ্ঠানে এই দখলদারদের সাথেই আপনাদের অংশগ্রহন করতে দেখা যায়। বিষটি ব্যখ্যা করবেন কি?

মমিন: কথাটা ঠিকেই, আমরা দখল নিতে পারি নাই। ব্যক্তিগতভাবে আমাদের অনেকের সাথেই সম্পর্ক ভদ্রভাবে দেখলে হয়ত কথায় যা বলি, সামনা-সামনি দেখা হলে কথা বলি সে যত বড় শত্র“ই হোকÑ এটুকুই। কিন্তু তহরম-মহরম যে অভিযোগটা করতেছো সেটা মনে হয় সেভাবে নাই।

(১১ অক্টোবর ২০১১ খ্রি. তারিখে নেয়া দীর্ঘ সাাতকারের প্রথমাংশ এ সংখ্যায় প্রকাশিত হল। হুবহু প্রকাশ করা গেল না। পরবর্তী সংখ্যায় বাকী অংশ প্রকাশিত হতে পারে। -সম্পাদক)

অপোর চোখ যৌবনের সিঁড়ি ভাঙে

দোলন চাঁপা


আমি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেই তোমার উঠোনে
বলতো কতোটা সময় পার হয়েছে
ভালোবাসাবিহীন?
সত্যিই চরম বিপাকে পড়ে গেলে
হতাশায় ভরে তোমার মনের গহ্বর
নত্রের কোলে মুখ লুকোও
অপরাধী কয়েদীর মতো।
জোছনার জোয়ারে ভাসি আমি
অপোর চোখ যৌবনের সিঁড়ি ভাঙে,
বাড়তি কিছুটা সময় কাটে তোমাকে ভেবে
একেবারেই সস্তা কষ্ট নিয়ে পড়ে থাকি নির্জনে।
তোমার ইন্দ্রজালে বন্দী আমি-
আমার মনের শহর
সেইদিন নিচুগলায় বলেছিলে,
তোমাকে একটু হলেও ভাবি।
এইটুকু সান্তনা নিয়ে পুড়ি অধিক
বর্ষার জল নামে নিস্তরঙ্গ আঁখিতে
অপূর্ণতার রঙ ছড়িয়ে দেই উদাসী মনে
হন্যে হয়ে খুঁজি রহস্যের ছিন্নশিকর।

সহজ স্বপ্ন

মোকলেছুর রহমান


চাঁদের মিথ্যে আলোর জৌলুসে
নীলাচ্ছন্ন জগৎচোখ যখন
খসে-খসে
ঝরে-ঝরে পড়ছে

দুর্গন্ধময় মতার কেন্দ্রকে ঘিরে
পরিবেশের উচ্ছিষ্ট-অপাঙতেয়
কীট-পতঙ্গগুলো যখন গদগদ করে পা চাটছে

এ চোখ তখন শ্রমে-ঘামে গড়ে ওঠা
ধুলি-কাদা মাটির পৃথিবী সদৃশ
সাদা-সুদা সহজ স্বপ্ন দ্যাখে।